খেলাধুলা

লাথিমারা থেকে ফুটবলের উদ্ভব! জেনে নিনি প্রকৃত ইতিহাস

ফুটবল খেলার ইতিহাস! বন্ধুরা পুরো পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে নৌপৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশেই কমবেশি ফুটবল খেলা সাথে জড়িত। আর এই ফুটবল খেলা কিভাবে আবিষ্কার হলো বা এর উৎপত্তি কোথায় কিভাবে এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে চলে এসেছে আজকের এই পোস্টটিতে। চলুন বন্ধুরা কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-

ফুটবল খেলার ইতিহাস

বাংলাদেশে ফুটবল বলতে এক ধরনের খেলা বোঝানো হলেও বিশ্বের নানা দেশে এটি নানা ধরনের খেলা হিসেবে অভিহিত হয়ে থাকে। ফুটবল (Football) নামটিও বিভিন্ন দেশে কিছুটা ভিন্ন বানানে এবং উচ্চারণে প্রচলিত। বাংলাদেশে আমরা যাকে ফুটবল বুঝি, ইংরেজি ভাষাভাষি অধিকাংশ দেশে ফুটবল বলতে তাই বোঝানো হয়।সাধারণভাবে তা অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল নামে পরিচিত। কোথায়ও কোথায়ও তা সকার (Soccer)নামে অভিহিত। সম্ভবত এসোসিয়েশনের বিকৃত সংক্ষিপ্তসার হচ্ছে সকার। এ সংক্রান্ত একটি ভাষ্যে বলা হয়, ১৮৮০’র দশকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ‘er’শেষে যোগ করে শব্দকে সংক্ষিপ্ত করতো। যেমন বলতো breakfast কে brekkers, রাগবি রুলস (rugby rules)কে ‘rugger’।

ফিফার ৪৮টি জাতীয় সংস্থার অফিসিয়াল ভাষা ইংরেজি

বলা হয়ে থাকে ‘সকার’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন চার্লস রিফোর্ড ব্রাউন। এতোদিন খেলাটি পরিচিত ছিল অ্যাসোসিয়েশন রুলস বা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রুলস (Football Association Rules) নামে। একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি অ্যাসোসিয়েশন রুলস খেলতে ইচ্ছুক কিনা। তিনি জবাব দেন ‘No, Soccer.’ পরবর্তীকালে তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলেন এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ফিফার যে ৪৮টি জাতীয় সংস্থার অফিসিয়াল বা প্রাইমারি ভাষা ইংরেজি, তাদের মধ্যে মাত্র ৫টি- কানাডা, মার্শাল আইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র- সকার নামে খেলাটি পরিচিত, বাকি দেশগুলোতে ফুটবল হিসেবেই খেলাটি প্রচলিত। ইংরেজি ভাষার শব্দ ফুটবল দিয়ে রাগবি ফুটবল (রাগবি ইউনিয়ন ও রাগবি লিগ), আমেরিকান ফুটবল, অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল, গালিক ফুটবল, কানাডিয়ান ফুটবলও বোঝায়।

সাধারণভাবে মনে করা হয়ে থাকে ফুটবল বা ‘ফুট বল’ শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে কোন বলকে পা দিয়ে লাথি দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে। কিন্তু এর বিরোধী ব্যাখ্যাও আছে। তাতে বলা হচ্ছে মধ্যযুগীয় ইউরোপে পা দিয়ে খেলা হতো এমন অনেক খেলা বোঝাতেই ফুটবল শব্দটি ব্যবহৃত হতো। আর এসব খেলায় অংশ নিত সাধারণভাবে কৃষকরা। অভিজাতরা যখন ঘোড়ায় চলে বিভিন্ন ক্রীড়ায় অংশ নিত, তখন দরিদ্র কৃষকরা পায়ের উপর ভর করে খেলতো। এথেকে উপসংহার টানা হচ্ছে, শুধুমাত্র বলকে লাথি মারার খেলাকেই ফুটবল নামে অভিহিত করা হতো না। এমনকি কোন কোন সময় ফুটবল এমন কিছু খেলাকেও বোঝাতো, যেখানে কিক করাই বেআইনি হিসেবে অভিহিত হতো।

ফুটবলকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ খেলা- একটি গোলাকার বলকে মাঠি দিয়ে গড়িয়ে হোক আর বাতাসে ভাসিয়ে হোক, হাত দিয়ে না ছুঁয়ে প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে গোললাইন অতিক্রম করে দিতে পারলেই হলো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে দল যতবেশিবার কাজটি করতে পারবে, তারাই জয়ী হবে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য কিক করা, দৌড়ানো, পাস দেওয়া, পাস ধরা সবকাজই করতে হয়।

কোথা থেকে ফুটবলের সূচনা হয়েছে

মানবজাতির প্রাচীন ইতিহাস শুরুর সময় থেকেই সম্ভবত কোনো কিছুকে লাথি দেয়ার প্রচলন ঘটেছে। ফুটবলের মতো কিছু কিছু খেলার বিবরণ অনেক প্রাচীন সাহিত্যেও পাওয়া যায়। তবে ফুটবলের প্রাচীনতম ধরণটি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানা যায় না। কোথা থেকে ফুটবলের সূচনা হয়েছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা অভিমত। চীন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইটালি, মেক্সিকো এমনকি এক্সিমোদের মধ্যেও কোন না কোন ধরনের ফুটবল খেলার ইতিহাস দেখা যায়।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে লিখিত দলিলের ভাষ্য অনুযায়ী হান রাজবংশের সময়ে চীনারা ফুটবল খেলতে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। চীনা সামরিক বাহিনীর উক্ত পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী ‘সু চু’ (tsu chu) নামের একটি খেলা হতো এবং তাকে চামড়ার একটি বলকে ৩০ ফুটের দুটি পোলের মধ্যে টানানো সিল্কের গর্তের মধ্যে পাঠাতে হতো। এটা সত্যিকার অর্থে কোন খেলা ছিল না। বরং বলা যায় সম্রাটের একটি বিনোদন ব্যবস্থা ছিল এটি। আর তা হয়েছিল সম্ভবত প্রায় তিন হাজার বছর আগে।

ফুটবল খেলার ইতিহাস

 ১৯০৩ সাল-এশিয়ায় বল লাথি দেয়ার আরেকটি খেলার কথা পাওয়া যায় এবং এটিও সু চু থেকে নেয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়, যার নাম ‘কেমারি’। ৬০০ খৃস্টাব্দের দিকে জাপানি রাজদরবারে এই খেলাটির প্রচলন ছিল। কেমারি খেলায় একটি বৃত্তের চারদিকে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দাঁড়াত এবং তারা লাথি দিয়ে বলটিকে অন্যের কাছে দিত, তবে বলটিকে মাটিতে পড়তে দিত না। দীর্ঘদিন খেলাটির প্রচলন ছিল এবং ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। অবশ্য প্রাচীন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার গরজ থেকে ১৯০৩ সালে খেলাটি আবার প্রচলিত হয় এবং জাপানের কোন কোন স্থানে উৎসবে বা পর্যটকদের আনন্দ দিতে খেলাটি প্রদর্শিত হয়ে থাকে।

১৬১০ সাল উইলিয়াম স্ট্রাসি- গ্রিক এবং রোমানরাও পায়ের ব্যবহারের কিছু কিছু খেলা সম্পর্কে অবগত ছিল। রোমান লেখক সিসেরো একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, যাতে দেখা যায় লাথি থেকে আসা একটি বল নাপিতের দোকানে ঢুকে পড়ে শেভ করার সময়ে একটি লোককে আঘাত হানলে সে নিহত হয়। তাছাড়া ‘হারপাসতু’ নামের খেলাটি আধুনিক রাগবির মতো বলেও ধারণা করা যেতে পারে।এছাড়াও বিশ্বজুড়ে প্রাচীন বিভিন্ন আদিবাসী সমাজে বল খেলার বিভিন্ন বর্ণনা দেখা যায়। আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদেরও মধ্যেও এ ধরনের একটি খেলার বর্ণনা দিয়েছেন ১৬১০ সালে উইলিয়াম স্ট্রাসি। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে অত্যন্ত প্রাচীন আধুনিক ফুটবলের আকৃতির পাথরের বল আবিস্কৃতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বল দিয়ে দুই ধরনের খেলা হতো। একটি হলো পা দিয়ে যতদূর সম্ভব দূরে পাঠানো এবং অন্যটি হলো পা দিয়ে যতদূর সম্ভব ঠেলে নিয়ে যাওয়া।

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়াতে আদিবাসীরা ‘ম্যার্ন গ্রক’ নামের একটি খেলা খেলতো। আলাস্কার এক্সিমোরাও ‘একসাকটুক’ নামের একটি খেলা খেলতো বরফ দিয়ে। বরফের মাঠে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় তারা ফুটবল নিয়ে মাতামাতি করতো। বিশেষ করে অতিথিদের স্বাগত জানানোর সময়ে একসাথে ওয়ার্ম আপ করে নেয়ার জন্য তারা আগতদের প্রতি ম্যাচ খেলার চ্যালেঞ্চ ছুঁড়ে দিত।

তো বন্ধুরা আপনারা জেনে গেলেন যে কিভাবে ফুটবল খেলার আবিষ্কার হয়েছে। তো বন্ধুরা এরকম নতুন নতুন পোস্ট পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে থাকুন । পোস্ট পোড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।