তথ্য ও প্রযুক্তি

মহাকাশ ও উপগ্রহের নতুন অজানা তথ্য

মহাকাশ ও উপগ্রহ! হ্যালো বন্ধুরা আপনাদের সবাইকে স্বাগতম আমাদের এই ওয়েবসাইটে। আপনি কি জানেন সূর্যের ওজন কত, আপনি কি জানেন সূর্য আসলে কোন কোন উপাদান দিয়ে গঠিত, আর আপনি কি জানেন ভবিষ্যতে মঙ্গলে এবং চাঁদে মানুষ বসবাস করতে পারবে। এসব বিষয় যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে আজকের পোষ্টটি আপনাদের জন্য। তাই আপনাদের কাছে একটি অনুরোধ পুরো পোস্টটি স্কিপ না করে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক আজকের পোস্ট।

মহাকাশ ও উপগ্রহ

১/সূর্য: আপনারা সবাই জানেন সূর্য একটি নক্ষত্র। কিছুদিন আগে নাসার বিজ্ঞানীরা  সূর্যের আলট্রাটেক রোশনি মাধ্যমে সূর্য কি দিয়ে গঠিত তা আবিষ্কার করেছে। সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। এ বিষয়ে আরও তথ্য জানিয়েছে নাসা। জানিয়েছে সূর্যের ভর প্রায় 1.99 (10)১৩ কিলোগ্রাম। এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক। পৃথিবী এবং বাকি গ্রহগুলোর সূর্যের উপর নির্ভর করেই টিকে রয়েছে। আর সূর্যের নিকটতম গ্রহ হচ্ছে বুধ আর সবচেয়ে দূরের গ্রহ হচ্ছে ইউরেনাস নেপচুন। ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা দূরে যে এদের দুরিবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না।

২/ বুধ: সূর্যের নিকটতম গ্রহ হচ্ছে বুধ। আর আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ছোট গ্রহ হচ্ছে বুধ। সূর্য থেকে এর দ্রুত ৫.৮ কোটি কিলোমিটার আর এর ব্যাস ৪৮৫০ কিলোমিটার। নাসার বিজ্ঞানীর মতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে 88 দিন। ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাকাশযান মেরি নার কে ১০ বুধের প্রথম ছবি তুলে নিয়ে আসে। সেই ছবি থেকে জানা গেছে বুধ এর উপরি তল চাঁদের মতো । বুধে অসংখ্য গর্ত এবং অসংখ্য পাহাড় এবং সমতল ভূমি রয়েছে এই গ্রহে।

৩/ শুক্র : আমরা ভোরের আকাশে এবং সন্ধ্যার আকাশে যে তারা দেখে  থাকি তাকে শুকতারা বা ধ্রুবতারা বলা হয়। কিন্তু আসলে এটি কোন তারা নয় আমাদের শুক্র গ্রহ। শুক্র গ্রহের উপরিভাগ বরফ দিয়ে ঢাকা। এই গ্রহে উপরের ভাগ বায়ুমন্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প এবং মেঘের দেখা যায় ।। তাই গ্রহের উপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে আসে, বলে শুক্র কে তারার মতো দেখা যায।। এই গ্রহের বিশেষ দিক  উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনোই দেখা যায় না। এর বায়ুমণ্ড কার্বন-ডাই-অক্সাইড দিয়ে তৈরি। এই গ্রহের  বৃষ্টিপাত হয় তবে এসিড বৃষ্টি। শুক্রের ব্যাস ১২১০৪ কিলোমিটার ধারণা করা হয়েছে। সূর্যকে একবার ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। তাই বলা যায় শুক্র এক বছর হয় ২২৫ দিনে। আর এই গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

৪/পৃথিবী:পৃথিবী আমাদের আবাসভূমি হিসেবে আমরা বসবাস করি। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যেখানে জীবের অস্তিত্ব রয়েছে। সৌরজগতের সূর্যের তৃতীয়তম নিকটতম গ্রহ হচ্ছে পৃথিবী। ধারণা করা হয়  পৃথিবীর ব্যাস ১২৬৬৭ কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। আপনারা সবাই জানেন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করেন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হচ্ছে চাঁদ। ধারণা করা হচ্ছে ২১০০ সালে নাগাদ চাঁদে এবং মঙ্গলে মানুষ বসবাস করবে। এ বিষয় নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা  পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

৫/মঙ্গল: মঙ্গল পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশীর গ্রহ বলে ধরা হয় । বছরের অধিকাংশ সময়ে এই গ্রহকে দেখা যায়। আপনি কি জানেন মঙ্গল গ্রহকে খালি চোখে দেখা যায়। সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব প্রায় ২২.৮ কোটি কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়েছে। আবার নাসার বিজ্ঞানী আরো জানিয়েছেন এর ব্যাস প্রায় ৬৭৮৭ কিলোমিটার। এই গ্রহের দিবারাত্রি পরিমাণ প্রায় সমান। এই গ্রহের প্রায় সূর্যকে চারদিকে ঘুরে আসতে সময় লাগে ৬৮৭ দিন। মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগ গিরিখাত এবং আগ্নেয়গির। নাসার বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন মঙ্গল গ্রহের পানি এবং অক্সিজেন আছে কিন্তু এদের মাত্র খুবই কম কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড পরিমান এত বেশি যে শতকরা ৯৯ ভাগ, তার কারণেই মঙ্গল গ্রহের জীবের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। আবার মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

৬/বৃহস্পতি: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে মনে করা হয় । বৃহস্পতির বিশাল আকৃতির জন্য একে গ্রহরাজ বলা হয়। বৃহস্পতির ব্যাস এক লাখ ৪২৮০০ কিলোমিটার। এর আয়তন পরিমাপ করা হয় , আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১৩০০ গুণ বড় বলে ধারণ করা হয়। বৃহস্পতি গ্রহ সূর্য থেকে প্রায ৭৭ পয়েন্ট আট কোটি কিলোমিটার। বৃহস্পতি গ্রহ পৃথিবীর ২৭ ভাগের এক ভাগ তাপ পায়। বৃহস্পতির বায়ুমন্ডল হাইড্রোজেন হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। বায়ুমন্ডলের উপরিভাগের তাপমাত্রা খুবই কম কিন্তু অন্তর বা অভ্যন্তরীণ ভাগে তাপমাত্রা অনেক বেশি প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪ হাজার ৩৩১ দিন। আর বৃহস্পতির উপগ্রহ সংখ্যা হচ্ছে ৬৭ টি। বৃহস্পতি গ্রহের অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য এই গ্রহের অস্তিত্ব নেই।

৭/শনি: শনি গ্রহ সৌরজগতে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এই গহের বায়ুমন্ডল গ্যাসীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। সূর্য থেকে শনি গ্রহের দূরত্ব প্রায় ১৪৩ কোটি কিলোমিটার ধারণা করা হয়। শনি গ্রহের ভূত্বক হচ্ছে বরফ দিয়ে ঢাকা। এর বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন হিলিয়াম মিথিয়াম ওনেসিয়াম ইত্যাদি গ্যাস পাওয়া গেছে। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন সূর্য চারদিকে একবার ঘুরে আসতে শনি গ্রহের সময় লাগে প্রায় ২৯.৫ বছরের সমান। শনির উপগ্রহ হচ্ছে ৬২টি বলে ধারণা করা হয়েছে।

৮/ইউরেনাস: তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ । সূর্য থেকে এত দূরে যে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদেরকে দেখা যায় না। ইউরেনাস সূর্য থেকে প্রায় 287 কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এই গ্রহের সময় লাগে প্রায় ৮৪ বছর। গ্রহের ব্যাস ৪৯ হাজার কিলোমিটার।

৯/নেপচুন: সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহের মধ্যে ইউরেনাস সর্বপ্রথম। কারণ সূর্য থেকে ইউরেনাসের দ্রুত প্রায় ৪৫০ কোটি কিলোমিটার বলে ধারণ করা হয়েছে। এখানে সূর্যের আলো ও তাপ খুবই কম। এর ব্যাস ৪৮ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এই গ্রহের আয়তন কল্পনা করা হয়েছে ৭২টি পৃথিবীর সমান এবং 17 টি পৃথিবীর সমান এর ভর। এর উপগ্রহ হচ্ছে ১৪ টি।

মহাকাশের আকার ,আকৃতি নিয়ে বিজ্ঞানীর ধারণা

আসলে আমাদের সৌরজগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গ্রহ, উপগ্রহ ,নক্ষত্র ও উল্কাপিণ্ড আবিষ্কার হচ্ছে। আমাদের ধারণার বাইরে সৌরজগৎ। মহাকাশ বিজ্ঞানী তাদের ধারণা অনুযায়ী বর্তমানে যা আবিষ্কার হয়েছে তা হল সমুদ্রের বিশাল জলারাশির মধ্যে এক বিন্দু জল। আমাদের মহাকাশের আকার এবং আকৃতি আছে কিনা এ বিষয়ে বিজ্ঞানী কোন ধারণা পাইনি। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে এবং নতুন নতুন ও তথ্য আবিষ্কার করছে। আরো নতুন নতুন গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র সন্ধান মিলছে। আসলে মহাকাশ আমাদের ধারণার বাইরে, আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করতে পারব না । আজকে বন্ধুরা এই পর্যন্তই। সবাইকে ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার  জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।