রাজনীতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পৃথিবীতে মুদ্রাস্ফীতি ছড়িয়ে দেয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মুদ্রাস্ফীতি! কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলেই অতিরিক্ত টাকা ছাপাতে পারেনা এর জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে ইচ্ছেমত টাকা ছাপালেই বারে বিপদ। অর্থের প্রবাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। বাড়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে জীবনযাত্রার খরচ অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে ১৯২০ এর দশকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্মান সরকার ইচ্ছেমতো টাকা ছাপাতে শুরু করে ফলটাও হয়েছিল ভায়াভয়ো। ১৯২৩ সালের জানুয়ারিতে এক টুকরো রুটি কিনতে ২৫০ রাইস মার্ক খরচ হলেও নভেম্বরের মধ্যে তা পৌঁছে যায় ২০০ বিলিয়নে অবিশ্বাস্য হলেও এটিই ঘটেছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মুদ্রাস্ফীতি

২০২০ সালে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাপায়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। যেখানে যুক্তরাষ্টে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংস হয়। এর কারণটা কি আসলে যুক্তরাষ্ট্র মুদ্রাস্ফীতি গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে দেয় অর্থাৎ তিন ট্রিলিয়ন ডলার ছাপানোর ফলে মুদ্রাস্ফীতি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে বাড়েনি বরং তা দেশে দেশে ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের বাজারে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি এর একটাই কারণ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ডলার ছাপানো। আর এটাই ইউএস ডলারের সুপার পাওয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, ব্যাংক  অফ আমেরিকাকে লোন দেয়। সেই টাকা ব্যাংক অফ আমেরিকার কাছ থেকে সাধারণ মানুষ লোন নেয়। ফেড ব্যাংক ৬.১৫% সুদ নেয় ব্যাংক অফ আমেরিকার কাছ থেকে। ব্যাংক অফ আমেরিকার তখন মিস্টার এক্সের কাছে ৮.১৫%  সুদে ঋণ দেয়। অর্থাৎ তারা দুই শতাংশ লাভ করে। কিন্তু যখন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায় তখন এমন অবস্থায তৈরি হয় যে, ক্রেতাদের কাছে একটা গাড়ি কেনার মত অর্থ থাকে না। আবার বিক্রেতারাও গাড়ি বিক্রি করতে পারে না। যার মানে বাজারে টাকার প্রবাহ থাকেনা। এমন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে ফেডারেল ব্যাংক কি করে। তখন তারা কনটিটিফ মেথড ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে ফেডারেল ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে দেয় এবং বাজারে ডলার ছাড়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করি। নতুন পরিস্থিতিতে উদাহরণস্বরূপ ফেডারেল ব্যাংক ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাপাবে এবং ব্যাংক অফ আমেরিকার কাছ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের একটি বন্ড কিনবে। ব্যাংক অফ আমেরিকা 0.১% সুদে ১০০ বিলিয়ন ডলার নিলো। মূল্য মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার কারণে আগে যেখানে ৯.২৫% সুদে ব্যাংক অফ আমেরিকা ঋণ দিত এখন তারা সুদের হার কমিয়ে চার শতাংশ সুদে ঋণ দিবে। কারণ এ থেকে তাদের দুই শতাংশ লাভ থাকবে এবং তাদের হাতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ রয়েছে

এই যে সুদের হার কমে গেছে এর ফলে বছর শেষে লোকজনের সঞ্চয় বেড়ে যায়। এখন তারা গাড়ি কেনার জন্য কার লোন আবেদন করবে। গাড়ির চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে তখন গাড়ি কোম্পানি দাম বাড়ালেও বিক্রি করার মতো যথেষ্ট ক্রেতা তারা পাবে। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।

মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে

যেমন জার্মান কোম্পানি ফক্স ও আবান যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি রপ্তানি করে থাকে। আগে যে গাড়ি তারা ইউএস এ ২ লাখ  ডলার বিক্রি করতো দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় একই গাড়ি দুই লাখ বিশ হাজার ডলারে বিক্রি করবে। কিন্তু জার্মানিতে এই গাড়িটির দাম ২ লাখ ডলার অর্থাৎ আমেরিকা বিক্রি করলে তারা বিশ হাজার ডলার বেশি পাবে। তাই জার্মানিতে বিক্রি বন্ধ করে আমেরিকায় বেশি গাড়ি রপ্তানি করবে এবং একটা পর্যায়ে মানুষ জার্মানিতেও ২ লাখ ২০ হাজার ডলার দিয়েই গাড়িটি কিনবে। এই উদাহরণটা শুধু গাড়ির ক্ষেত্রে নয় যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য

কোভিদ 19 মহামারী মোকাবেলায় আমেরিকান সরকার সে দেশের জনগণকে বিপুল প্রণোদনা দিয়েছে। এই অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে তারা যেমন একদিকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে তেমনি সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বিপুল মুদ্রা ছাপিয়েছে আর মুদ্রাস্ফীতি প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে মাত্র সাড়ে তিন মাসে এই যে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাপিয়েছে এ নিয়ে আপনার বক্তব্য আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।