উৎসব

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৪, থার্টি ফার্স্ট ডে নাইট ও মহা উৎসব

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৪! হ্যালো বন্ধুরা প্রথমে সবাইকে জানাই All Info 360 এর পক্ষ থেকে হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা। আশা করি সকলেই ভালো আছেন।

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৪

আমাদের সামনে দেখতে দেখতে আরেকটি হ্যাপি নিউ ইয়ার চলে আসলো। হ্যাপি নিউ ইয়ার আসলে নতুন কিছু নয়। এটি মূলত নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার একটি উৎসব। যেটি পশ্চিমা বিশ্বে হয়ে থাকে।

কিন্তু এই আধুনিক বিশ্বে এই উৎসবটি এখন সমগ্র পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই পালিত হয়ে থাকে। যা একটি মহা উৎসবে রূপান্তর হয়েছে। এই উৎসবের দিনে শহরগুলোতে বিভিন্ন রঙের আতশবাজিতে ছেয়ে যায়। এই দিনটিকে শুরুর দিকে মনে করা হতো ধনীদের উৎসব। কিন্তু বর্তমানে এই উৎসবটি সমগ্র শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেছে ।

এই উৎসবের বিশেষ কিছু বিশেষায়িত হচ্ছে, এই দিনটিতে মানুষ তার জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে, অনেকেই আবার এই দিনটিতে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে, কেউ কেউ আবার রয়েছে এই দিনটিতে তার জীবনের জীবন সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। তাই এই দিনটির তাৎপর্য অনেক বেশি।

থার্টি ফার্স্ট ডে নাইট

হ্যাপি নিউ ইয়ার বা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হচ্ছে থার্টি ফার্স্ট ডে নাইট। এই রাত্রে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রতিটি শহর, গ্রাম এবং পাড়া মহল্লায় হরেক রকমের উৎসব আয়োজন করা হয়। আর এসব উৎসবের মধ্যে রয়েছে গ্রামবাংলায় বেশিরভাগ বনভোজ খাওয়ার মাধ্যমে এই দিনটি বরণ করে নেয়।

আর শহর অঞ্চলে এই দিনটিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য তারা আতশবাজি ও পটকা ফুটানোর মতো উৎসবে মেতে উঠে। এমনকি কিছু কিছু শহর গুলোতে লক্ষ্য করা যায় লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আতশবাজির উৎসব আয়োজন করে। আর এসব আয়োজন দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন শহরগুলোতে ভিড় জমায়। বিশেষ করে ইতালি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এসব উন্নত দেশে আতশবাজির আয়োজন অনেক বেশি হয়ে থাকে। আর হ্যাপি নিউ ইয়ারকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করে থাকে চীন।

এমনকি হ্যাপি নিউ ইয়ারকে বরণ করে নেওয়ার জন্য বিশ্বের সুউচ্চ ভবন গুলোকে ব্যবহার করা হয়। যেমন বলা যায় বুজ খলিফার কথা। প্রতিবছর হ্যাপি নিউ ইয়ার কে বরণ করে নেওয়ার জন্য বুজ খলিফায় অবিশ্বাস্য আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। আর এই আয়োজন দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শকের ভির জমে। এমনকি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতেও আমরা এ আয়োজনগুলো লাইভ দেখতে পারি।

 বিভিন্ন দেশে হ্যাপি নিউ ইয়ার এর আয়োজন

হ্যাপি নিউ ইয়ার এর দিন বিভিন্ন দেশে হরেক রকমের ভজনের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শূকরের মাংস খাওয়া। এই দিনটিতে অস্ট্রিয়া, কিউবা, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে শূকরের মাংস খাওয়ানো হয়।

এটিকে তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক মহা উৎসব বলে মনে করে। হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৪ এছাড়া নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো এবং গ্রিসে ভজনের এক বিশেষ আয়োজন করা হয় যাকে গেলাকৃতির কেক নামে ডাকা হয়। অর্থাৎ এই উৎসবে কেকের মাঝে একটি বাদাম দেওয়া থাকে যে বাদামটিকে সবাই মিলে একসঙ্গে খুঁজতে থাকে যে আগে বের করতে পারবে সেই জয়ী। এর বাইরেও সুইডেন ও নরওয়েতে তৈরি করা হয় বিশেষ ধরনের রাইস পুডিং।

ইতিহাসে ঘটে যাওয়া হ্যাপি নিউ ইয়ারে কিছু অঘটন

যেহেতু হ্যাপি নিউ ইয়ার এর উৎসবটি মূলত রাত্রে পালিত হয়। তাই এই সময়টিতে ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু অঘটন এখনো মানুষকে তারা করে। কেননা ইতালিতে হ্যাপি নিউ ইয়ার এর এক রাত্রে সেখানকার বাসিন্দারা অনেক বেশি মদ্যপান করে আতশবাজি ফুটাতে থাকে।

আর এসব আতশবাজির বিকট শব্দে সেখানকার পাখিগুলো এদিক সেদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। এতে করে কিছু পাখি সেখানেই স্টক করে মারা যায়। কিছু পাখি দেয়ালে আঘাত লেগে মাথা ফেটে যায়। আর এরকম অনেক পাখি রয়েছে যেগুলোর বাচ্চা বাসায় রেখে মারা গিয়েছে। পরবর্তীতে এসব বাচ্চারা না খেয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়। যা ইতিহাসের পাতায় এক কলঙ্কময় অধ্যায়। একই সাথে হ্যাপি নিউ ইয়ারের দিন প্রকৃতিতে বারে বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণ। পাশাপাশি অনেক সময় দেখা যায় যেসব আতশবাজি গুলো ফুটানো হয় সেগুলো মানুষের চোখে মুখে লেগে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করে। তাই এই দিনটি অবশ্যই সাবধানে পালন করার চেষ্টা করতে হবে।

হ্যাপি নিউ ইয়ারে খারাপ দিক

অনেকেই বলে থাকে হ্যাপি নিউ ইয়ার মূলত ধনী ব্যক্তিরা গরীবদের হেও করার জন্য পালন করে থাকে। আর এটি অনেকাংশই সত্য। কেননা আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব এই দিনটিতে গরিব ব্যক্তিদের তেমন কোন উৎসব চোখে পড়ে না।

আর শহরের বড় বড় নামিদামি ধনী ব্যক্তিরা ও তাদের ছেলেমেয়েরা এই দিনটি বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট, বাসার ছাদ বা অনেক নামি দামি জায়গায় উদযাপন করে। আরও যদি লক্ষ্য করি তাহলে আমরা স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাবো এই উৎসবটি মূলত পশ্চিমা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর ঐসব দেশে এই উৎসবটি পালন করার জন্য প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা খরচ করা হয় যা আমাদের মত অনুন্নত দেশগুলোর জন্য অবিশ্বাস্য।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।