রাজনীতি

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গোরালো

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৩

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন! তুরস্কে  গত ১৪ ই মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যে নির্বাচনে ৬টি দল একত্রিত হয়ে এরদোয়ানকে হারানোর পরিকল্পনা করছে। এই ছয়টি দল একত্রিত হয়ে তুরস্কের গান্ধী খ্যাত নেতা কিলিচদারোলুকে তাদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। গত শনিবার তুরস্কের উত্তর পশ্চিম বুরসা প্রদেশে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনে  দুইটি নির্বাচনের তারিখ জানান এরদোয়ান।

এবারের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি বিশাল অংশ রয়েছে যারা নতুন প্রজন্মের ভোটার। আর এসব ভোটারের বেশিরভাগ এরদোয়ানকে তেমনভাবে পছন্দ করতেছেনা। এর একটি কারণ হিসেবে জানা গেছে তুরস্কে মুদ্রাস্ফীতি এবং ২০২৩ সালে ভূমিকম্পে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু।

এমনকি বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও 15 লাখ মানুষ। আর এসব কারণে তুরস্কের নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে  এরদোয়ানের প্রতি এক প্রকার অনীহা রয়েছে। এমনও ভোটার হয়েছে যারা জন্মের পর থেকে তুরস্কে আর অন্য কোন প্রেসিডেন্ট দেখেনি। তাই এরদোয়ানের জন্য এবারের নির্বাচনটি হতে চলেছে এক অগ্নিপরীক্ষা।

এরদোয়ানের স্থায়ী কাল

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ২০০৩ সালে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট পদে বসেন। ২০১৮ সালে এরদোয়ান একটি নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থা দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে বেশির ভাগ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। আগে প্রেসিডেন্টের পদটি ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক পদ। নতুন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের নিয়ম করা হয়। ৬৮ বছর বয়স এরদোয়ানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা চালু অভিযোগ রয়েছে।

গান্ধীখ্যাত নেতা কিলিচদারোলু

বিগত কয়েক বছর ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে তার পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অনেক পায়তারা করছিল বিভিন্ন দল । শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে সর্বশেষ ২০১৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এই সেনা অভ্যুত্থান কে খুব সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করলেও এবারে নির্বাচনে এরদোয়ানের কঠিন প্রতিপক্ষ কিলিচদারোলু।

কিলিচদারোলুর জন্ম ১৯৪৮ সালে। বাবা একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। সাত সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তিনিই পরিবারের একমাত্র সদস্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়েছেন।

আঙ্কারার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইকনমিক্স ও ফিন্যান্স নিয়ে পড়েন। তারপরই ১৯৭১ সালে  তিনি তুরস্কের অর্থ ও রাজস্ব মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা হিসাবে যোগ দেন। কিলিচদারোলু মূলত  সিএইচপি পার্টির দুর্নীতি সকলের সামনে প্রকাশ করার কারনে মিডিয়ায় সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করে।

নির্বাচনী আমেরিকার হস্তক্ষেপ

 তুরস্কো মূলত ন্যাটোর সদস্য হোয়ায় চাইলেও ইচ্ছেমতো তাদের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের কোন কাজ করতে পারেনা না আমেরিকা। কারণ তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান  কোন বিষয়ের ভাল মন্দ দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে  তবেই অনুমতি প্রদান করে থাকে। আর এতেই খেপেছে আমেরিকা।

যার ফলে এবারের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে এই দেশটি দাবি করেছ  এরদোয়ান। তিনি বলেন তুরস্ক যেন বিশ্ব রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে তার জন্য সকল ব্যবস্থা করছে আমেরিকা।

তিনি আরো বলেন কিলিচদারোলু ক্ষমতায় আসলে বিশ্ব রাজনীতি থেকে ছিটকে যাবে তুরস্ক। ফলে শুরু হবে আঞ্চলিক অস্থিরতা আর এই সুযোগের অপেক্ষায়  আছেন আমেরিকা। আমেরিকা চায় তুরস্ক যেন  নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে বিশ্ব রাজনীতিতে যেন তারা কখনও আসতে না পারে।

এছাড়া কিলিচদারোলু ক্ষমতায় আসলে এরদোয়ান  নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য যেসকল  এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম চালু করেছিল সেগুলো বন্ধ করতে পারে।

প্রথম দফার রেজাল্ট

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়ালো দ্বিতীয় দফায় কেনন কোন দল প্রথম দফায় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। গত ১৪ ই মে অনুষ্ঠিত তুরস্কে নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পেয়েছে ৪৯.৫ শতাংশ ভোট আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিস দারুকলু পেয়েছে ৪৪.৫ শতাংশ ভোট।

বন্ধুরা আশা করি আজকের পোস্টটি ভাল লেগেছে এরকম বিশ্বরাজনীতির নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।